নীলাদ্রি লেক – শহীদ সিরাজ লেক
চারদিকে সারি সারি শিলা পাথরের মাঝে নীলাদ্রি হ্রদ একটি সৌন্দর্যের প্রতীক। হ্রদটি টেকেরঘাট গ্রামে অবস্থিত যা সুনামগঞ্জ জেলার শ্রীপুর ইউনিয়ন, তাহিরপুর উপজেলাধীন। এটি নীলাদ্রি লেক নামে পরিচিত হলেও স্থানটির যথাযথ নাম শহীদ সিরাজ লেক। এবং স্থানীয় লোকেরা একে টেকেরঘাট পাথর কোয়ারি নামেও অভিহিত করেন।
১৯৪০ সালে ছাতক উপজেলায় নির্মাণ করা হয় আসাম বাংলা সিমেন্ট ফ্যাক্টরি। ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে চুনাপাথর সংগ্রহ করে এর চাহিদা মেটানো হতো। বিভিন্ন সমস্যা ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণে ভারত থেকে পাথর সংগ্রহ বন্ধ হয়ে যায়। সে সময় তাহিরপুর উপজেলার সীমান্তে ট্যাকেরঘাটে চুনাপাথরের সন্ধান পায় বিসিআইসি কর্তৃপক্ষ। সেখানে খনিজ প্রকল্পটি চালু করা হয় এবং মাইনিংয়ের মাধ্যমে পাথর উত্তোলন করা হয়। পরে ১৯৯৬ সালে প্রকল্পটি লোকসানি প্রতিষ্ঠান হওয়ায় কোয়ারী থেকে পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দিলে এটি পরিত্যক্ত লাইম স্টোন লেকে পরিণত হয়। প্রথমে যোগাযোগ ব্যবস্থার দরুন এর সৌন্দর্য লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকলেও এখন বেশ সাড়া জাগিয়েছে। স্বতন্ত্র বৈশিষ্টের জন্য নিলাদ্রি লেক দেখে অনেক পর্যটক একে বাংলার কাশ্মীর হিসাবে অভিহিত করেন।
ভ্রমণ পরিকল্পনাঃ
নীলাদ্রী লেক, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান (Shimul Garden), বারেক টিলা এবং টাঙ্গুয়ার হাওরের দূরত্ব কাছাকাছি হওয়ায় আপনি চাইলে সময় ভাগ করে পছন্দের জায়গাগুলো দেখে ফেলতে পারবেন। সাধারনত বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওর (Tanguar haor) ভ্রমণ বেশি উপভোগ্য তাই বর্ষাকালে টাঙ্গুয়ার হাওর সহ নীলাদ্রী লেক, যাদুকাটা নদী, শিমুল বাগান, বারেক টিলা ভ্রমণ করতে টাঙ্গুয়ার হাওড় ট্যুর প্যাকেজ পরিকল্পনা দেখে নিতে পারেন।
নীলাদ্রি লেক ভ্রমণে জরুরী পরামর্শঃ
🔹 নীলাদ্রি লেকের গভীরতা অনেক বেশী হওয়ায় লেকের পানিতে নামতে বা সাতার কাটতে
🔹 লাইফ জ্যাকেট ব্যবহার করুন।
🔹 একদিনে সবগুলো জায়গা দেখতে সময়ের প্রতি যত্নবান হোন।
🔹 কেনাকাটার ক্ষেত্রে দরদাম করে নিন।
🔹 স্থানীয়দের সাথে ভাল ব্যবহার করুন এবং প্রয়োজনে তাদের সাহায্য নিন।
নীলাদ্রি লেকের কাছাকাছি আরো কিছু ভ্রমণের স্থানঃ
🔹 হিজল করচ বাগান।
🔹 বারিক্কা টিলা।
🔹 টাঙ্গুয়ার হাওর।
🔹 যাদুকাটা নদী।
🔹 শিমুল বাগান।
🔹 লাকমা ছড়া।
🔹 মেঘালয় পাহাড় সাইটসিং।
5,000 tk
2 Days - 3 Nights